জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
নথি অনুযায়ী, এ মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গতকাল সোমবার আদালত মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিনে মামলার বাদীসহ ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। এর আগে গত ২৪ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দিলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়।
সাক্ষ্যগ্রহণকালে মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা ঘটনার দিনের বিবরণ দিয়ে আদালতে জানান, ১৯ মে সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর তার স্ত্রী ফোন করে রামিসার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ জানান। তাৎক্ষণিকভাবে বাসায় ফিরে তিনি ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের সামনে প্রতিবেশীদের জড়ো হতে দেখেন। ফ্ল্যাটটি আসামি সোহেল ও স্বপ্নার। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর বাথরুমে রক্ত এবং ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষে বালতির ভেতর থেকে রামিসার খণ্ডিত মস্তক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে আসামি স্বপ্না উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।
মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী ও শিশুটির মা পারভীন আক্তার জবানবন্দিতে জানান, ঘটনার সময় বড় মেয়ে রাইসা চাচার বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হলেও ছোট মেয়ে রামিসা তার সাথে যায়নি। এর কিছুক্ষণ পর পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি শিশুর চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। পরবর্তীতে বড় মেয়ে একা ফিরে এলে রামিসার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে তিনি প্রতিবেশীদের ডাকেন এবং স্বামীকে সংবাদ দেন। দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর বাথরুমের সামনে রক্ত এবং ঘরের ভেতর শিশুর মরদেহ ও বিচ্ছিন্ন মস্তক দেখতে পান। ঘটনার পর পুলিশ এসে আলামত জব্দ করে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকালে আসামিরা কৌশলে তাকে ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে তথ্য পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে অপর আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আইনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় মামলাটি বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।


