ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন পূরণের পর এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখার মিশনে নামছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপে বহুল কাঙ্ক্ষিত ট্রফি উঁচিয়ে ধরে নিজের ক্যারিয়ারের একমাত্র বড় অপূর্ণতা মুছে ফেলার পরও এই মহাতারকার সামনে এখন অপেক্ষা করছে একের পর এক বিশ্ব রেকর্ড। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই একটি অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন তিনি।
আগামী ১৬ জুন গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটিতে মাঠে নামার সঙ্গেই নতুন ইতিহাস গড়বেন লিওনেল মেসি। এটি হবে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে একক কোনো খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। এই অনন্য কীর্তিতে তার সঙ্গী হতে যাচ্ছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া।
তবে মেসির লক্ষ্য কেবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফুটবল বিশ্বের নজর এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের দিকে। বর্তমানে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোজা, যিনি বিশ্বকাপে সর্বমোট ১৬টি গোল করেছেন। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও, যার গোলসংখ্যা ১৫। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ১৩টি গোল করেছেন মেসি। ফলে আসন্ন আসরে মাত্র ৩টি গোল করতে পারলেই তিনি ক্লোজার অলঙ্ঘনীয় রেকর্ড স্পর্শ করবেন। বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
গোলদাতার এই তালিকায় মেসির নিকটতম প্রতিদ্বন্দী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে ১২টি গোল করে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেকে ছুঁয়ে ফেলেছেন। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি নিজের করে নিতে মেসিকে এমবাপ্পের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে।
গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর ক্ষেত্রেও পেলের গড়া ঐতিহাসিক রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে পেলের অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১০টি, যেখানে মেসির নামের পাশে রয়েছে ৮টি অ্যাসিস্ট। আর মাত্র ৩টি অ্যাসিস্ট করতে পারলে তিনি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবেন।
এর আগে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি অবশ্য অনেক আগেই নিজের করে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। কাতার আসরের ফাইনাল পর্যন্ত খেলে ২৬টি ম্যাচ নিয়ে তিনি এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। এবারের আসরে ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। যদি আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পুনরায় ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে ফুটবল ইতিহাসে তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার বিরল রেকর্ডে নাম লেখাবেন তিনি।
বিশ্বকাপের মহোৎসব শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনা দলের অভ্যন্তরে ইনজুরি নিয়ে বিরাজমান উদ্বেগ কিছুটা কেটেছে। হালকা চোটের কারণে দলের প্রস্তুতি নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হলেও প্রথম ম্যাচ থেকেই মেসির খেলা নিশ্চিত বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে মূল পর্বের আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে হতে যাওয়া প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তাকে খেলানো হবে কি না, তা কৌশলগত কারণে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দলের অন্য প্রধান খেলোয়াড়দের চোট পরিস্থিতিও এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আঙুলের চোট কাটিয়ে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পোস্টের নিচে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। একই সঙ্গে রক্ষণভাগের প্রধান ভরসা ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হাঁটুর চোট কাটিয়ে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন। ফলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই কোচ লিওনেল স্কালোনি তার পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড ফিরে পাচ্ছেন, যা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। ট্রফি জয়ের পর এবার নতুন রেকর্ড গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নামতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আর্জেন্টিনা দল ও তাদের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি।


