দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে কমলো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম ভরিতে কমলো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে সোনা ও রুপার দামে বড় ধরনের নিম্নমুখী সমন্বয় করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পাকা সোনা বা তেজাবি সোনার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই দর পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

বাজুস সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে এবং স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিয়মিত বিরতিতে এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এবারের মূল্য হ্রাসের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম কমে যাওয়া। সাধারণত ঈদ বা বিভিন্ন উৎসবের পর এবং বিয়ের মৌসুমের বাইরে অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার চাহিদা ও জোগানে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে কাঁচামালের মূল্যে।

নতুন দরপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের সোনার দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪Style ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকায়।

এর আগে, গত ২৫ মে দেশের বাজারে সোনার দাম সর্বশেষ পুনর্নির্ধারণ করেছিল বাজুস। সেই সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এই বড় অঙ্কের দরপতনকে বাজার স্থিতিশীলকরণের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞরা।

সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামেও কিছুটা নিম্নমুখী সংশোধন আনা হয়েছে। মানভেদে রুপার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ১১৭ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা।

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমার ফলে অলংকার প্রস্তুতকারক ও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে দেশের বাজারে গহনা বিক্রিতে কিছুটা মন্দা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এই মূল্য হ্রাসের ফলে বাজারে ক্রেতাদের সমাগম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক জুয়েলারি শিল্পকে গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতার মধ্যেও এই দামের সমন্বয় স্থানীয় বাজারে এক ধরনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ