জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ ও বাসযোগ্যতা হ্রাসে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর চারপাশের নদী রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ার সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ নামক একটি কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা শহর ক্রমান্বয়ে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। বায়ুদূষণের কারণে নাগরিকরা বিশুদ্ধ অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মান প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা না গেলে টেকসই নগরায়ণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। মানুষের গড় আয়ু ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজন।
নগরীর সার্বিক উন্নয়নে শুধু নাগরিকদের সচেতনতাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছেন, ঢাকা শহর পরিচালনা করছেন এবং বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন, তাদের কাজের জবাবদিহিতা থাকা আবশ্যক। রাজধানীতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও, সাধারণ নাগরিকরা তা থেকে কতটুকু সুফল পাচ্ছেন তা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, সিটি করপোরেশন একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের উন্নত নগরীগুলো নির্বাচিত মেয়র ও স্বায়ত্তশাসিত করপোরেট কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও স্থানীয় সরকারের এসব সংস্থায় গভীর চিন্তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পকেন্দ্রিক ক্ষণস্থায়ী মানসিকতা পরিহার করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত ও নীতিগত পরিবর্তন আনা জরুরি।
ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর আশঙ্কাজনক দূষণ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয়, এক সময়ের প্রমত্তা বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী এখন তীব্র দূষণ ও দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাজধানীর অধিকাংশ পরিবেশগত সমস্যার মূলে রয়েছে এই নদী দূষণ। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর ও স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ঢাকার সুপেয় পানির সংকট ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়াকে ভবিষ্যতের জন্য এক ভয়াবহ বিপদ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিগত বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে উল্লেখ করে জানানো হয়, ঢাকা শহরের একটি বড় অংশের সরবরাহকৃত পানি সরাসরি পানের উপযোগী নয়। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় নগরীর পরিবেশগত ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে অতিদ্রুত ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নদী সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


