২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ বৈঠক

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের বনায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে কর্মপর্যায়ভিত্তিক জলবায়ু বার্তা নির্ধারণ এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবসের নানাবিধ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, চরাঞ্চল এবং দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকায় বনায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী। অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অসময়ে বন্যা, খরা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে দেশ। এই পরিস্থিতিতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এই উদ্যোগ দেশের সবুজ বেষ্টনী তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ হ্রাস করার পাশাপাশি মাটির ক্ষয়রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বৈঠকে কর্মসূচির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। রোপণকৃত চারাগুলোর টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বনায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি—এই তিন ক্যাটাগরির গাছের চারা রোপণে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো সর্বস্তরের জনগণকে পরিবেশ সচেতন করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সরকারের এই বৃহৎ সবুজ উদ্যোগ আগামী দিনগুলোতে দেশের জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ