ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৫২

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৫২

অপরাধ ডেস্ক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিএমপির সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (৬ জুন) সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় তেজগাঁও বিভাগের অধীনস্থ ছয়টি থানা এলাকায় একযোগে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, মারামারি ও বিভিন্ন মেয়াদের ওয়ারেন্টসহ সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২০ জনকে আটক করা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে। এছাড়া তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৮ জন, তেজগাঁও থানায় ৭ জন, হাতিরঝিল থানায় ৭ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ৫ জন এবং আদাবর থানায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নারী ও তরুণদের পাশাপাশি আইনগতভাবে বিশেষ বিবেচনায় থাকা ‘আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত’ এক শিশুও রয়েছে। আটককৃতদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত অপরাধের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা মহানগরীর অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা হিসেবে তেজগাঁও বিভাগ অপরাধীদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে থাকে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার কিছু পকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশের এই বিশেষ নজরদারি ও অভিযান। সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেই এই ধরনের ঝটিকা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃত ৫২ জন আসামিকে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও অপরাধের ধরন বিবেচনা করে প্রয়োজনে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে কিংবা যেকোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে যাতে কোনো অপরাধী চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অপরাধীদের অবস্থান চিহ্নিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে এই ধরনের কঠোর ও সুনির্দিষ্ট অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ