জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও বহুমুখী সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করেন।
একান্ত বৈঠকের পর উভয় দেশের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতির বিকাশ এবং কর্মী প্রেরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। এছাড়া উদীয়মান প্রযুক্তি খাত হিসেবে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট) বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এই খাতগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বেগবান করার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন।
দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন এবং বৈঠকের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। এরপর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত একটি মধ্যাহ্নভোজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল অংশ নেন। এই আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজ চলাকালে মালয়েশিয়ার স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মালয় এবং বাংলা ভাষার গানসহ একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের কর্মী সংকটের সমাধান, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মতো আধুনিক প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আলোচনা সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। দুই দেশের এই যৌথ উদ্যোগ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


