অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। চলতি জুন মাসের ১ তারিখ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত বিগত ২০ দিনে মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ অভিযানে মোট ১ হাজার ৫৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা রোধে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং অপরাধ চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া।
পুলিশের দেওয়া তথ্য বিবরণী অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একটি বড় অংশ বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধের সাথে জড়িত। বিগত ২০ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৬৩ জন সন্ত্রাসী, দস্যু, ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। এই চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাতের ঢাকা এবং নির্জন এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তাদের গ্রেফতারের ফলে রাজধানীর সড়ক ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন।
পাশাপাশি, মহানগরে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০ দিনের অভিযানে মোট ৫৪ জন চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত চাঁদাবাজদের মধ্যে একজন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তালিকাভুক্ত শীর্ষ অপরাধী, এবং বাকি ৫৩ জন বিভিন্ন স্থানীয় বাজার, গণপরিবহন ও ফুটপাতে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। এই অ-তালিকাভুক্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করাকে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে, কারণ এরা আড়ালে থেকে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অতিষ্ঠ করে তুলছিল।
অন্যদিকে, মাদকের বিস্তার রোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির অংশ হিসেবে এই অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জুন মাসের প্রথম বিশ দিনে ডিএমপির বিভিন্ন থানা ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি মেগাসিটি হিসেবে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে অপরাধীদের কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে মহানগরের প্রতিটি প্রান্তে তল্লাশি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও চেকপোস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ডিএমপি প্রশাসন আরও জানায়, রাজধানীবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ ঢাকা গড়ে তুলতে পুলিশের এই বিশেষ চিরুনি অভিযান চলতি জুনের বাকি দিনগুলোতেও সমভাবে অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান আগামীতেও বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।


