বিনোদন ও সংস্কৃতি ডেস্ক
চলচ্চিত্র, অভিনয়সহ দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মেধা অন্বেষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে সরকার শিগগিরই ‘প্রতিভার সন্ধানে’ নামক একটি বিশেষ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) যৌথভাবে দেশব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে। মঙ্গলবার বিএফডিসি প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়নের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান অভিনেতা, অভিনেত্রী ও দক্ষ কলাকুশলীদের চিহ্নিত করে মূল ধারার চলচ্চিত্রে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একদল দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই শিল্পের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে দেশব্যাপী মেধা অন্বেষণের এই উদ্যোগ ঝিমিয়ে পড়া দেশীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
অনুষ্ঠানে বিএফডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়। বিদ্যমান নীতিমালায় পেনশন সুবিধা না থাকায় দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচুইটির অর্থই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একমাত্র সম্বল। অতীতে এই পাওনা অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করা হলেও বর্তমান সরকার নিয়মে পরিবর্তন এনেছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা যেন এই অর্থ এককালীন এক জায়গায় বিনিয়োগ করে সম্মানজনকভাবে জীবন নির্বাহ করতে পারেন, সেজন্য এবার পুরো টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করা হচ্ছে। তহবিলের সাময়িক ঘাটতি থাকলেও পরবর্তী বছরগুলোতে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
চলচ্চিত্র শিল্পের গৌরব পুনরুদ্ধার এবং বিএফডিসির সামগ্রিক আধুনিকায়নে সরকারের একাধিক অবকাঠামোগত ও বৈপ্লবিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়। দ্রুততম সময়ে ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স’ নির্মাণ কাজ শেষ করে এটি চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সংস্থার আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হবে। এছাড়া প্রশাসনিক ভবনের পেছনের খালি জায়গায় একটি আধুনিক ‘মিনি মার্কেট’ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুরের কবিরপুরে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি’র দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজও শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। বিএফডিসির মালিকানাধীন সব ভূসম্পত্তির সর্বোত্তম বাণিজ্যিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরায় লাভজনক করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ রক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযোজকদের বিনিয়োগের স্বচ্ছতা ও স্বার্থ সংরক্ষণে অচিরেই ‘ই-টিকেটিং এবং সেন্ট্রাল সার্ভার’ স্থাপন করা হবে। এছাড়া বিএফডিসিতে বিশ্বমানের চলচ্চিত্র নির্মাণ যন্ত্রপাতি এবং পোস্ট-প্রোডাকশন স্টুডিওগুলোকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার কাজ চলছে। গ্রাহকসেবা দ্রুততর ও হয়রানিমুক্ত করতে একটি সম্পূর্ণ ‘বিজনেস অটোমেশন ব্যবস্থা’ চালুর প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই সব প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন হলে বিএফডিসি তার ব্যবসায়িক ও শিল্পসফল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


