বিশ্বকাপের চমক ইসমাইল সাইবারিকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরোতে দলে নিল বায়ার্ন মিউনিখ

বিশ্বকাপের চমক ইসমাইল সাইবারিকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরোতে দলে নিল বায়ার্ন মিউনিখ

ক্রীড়া ডেস্ক

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বিশ্ব ফুটবলের নজর কেড়েছেন ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ক্লাব ফুটবলেও বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বিশ্বকাপ চলাকালীনই এই ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গারকে দলে ভেড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে জার্মানির অন্যতম সফল এবং ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ।

আনুষ্ঠানিক চুক্তি অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসের শীর্ষ ক্লাব পিএসভি আইন্দহোভেন থেকে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিচ্ছেন সাইবারি। এই দলবদলের জন্য জার্মান ক্লাবটিকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরো। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উইং পজিশনে বায়ার্নের যে ঘাটতি ছিল, তা পূরণে সাইবারির অন্তর্ভুক্তি ক্লাবটির আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলবে। বিশেষ করে বুন্দেসলিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে বায়ার্ন কতৃপক্ষ এই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চলমান বিশ্বকাপে মরক্কোর আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ইসমাইল সাইবারি। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকে চমকে দেয় মরক্কো, যেখানে দলের পক্ষে একমাত্র সমতাসূচক গোলটি আসে সাইবারির পা থেকে। এরপর গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে স্কটল্যান্ড এবং হাইতির বিপক্ষেও একটি করে গোল করে দলের নকআউট পর্বে ওঠার পথ সুগম করেন তিনি। কেবল গোল করাই নয়, মাঠের গতি, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার ক্ষমতায় তিনি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গ্রুপ পর্বের ধারাবাহিক সাফল্য মরক্কো বজায় রাখে নকআউট পর্বেও। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের অত্যন্ত স্নায়ুচাপের ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ড্র হওয়ার পর ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে মরক্কোর হয়ে শেষ এবং জয়সূচক পেনাল্টি শটটি নেন সাইবারি। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তার নেওয়া সফল শটটির মাধ্যমেই নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ আট নিশ্চিত করে মরক্কো। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্ধারণ হয়েছে কানাডা। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নকআউট পর্বের এই কঠিন সমীকরণে সাইবারির বর্তমান ফর্ম মরক্কোর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল যাত্রার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বর্তমান সাফল্যের পেছনে রয়েছে সাইবারির ক্লাব ফুটবলের চমৎকার ধারাবাহিকতা। গত মৌসুমে ডাচ লিগ বা ‘এরেডিভিজি’-তে পিএসভি আইন্দহোভেনের হয়ে অসাধারণ খেলে তিনি লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। পিএসভির জার্সিতে ঘরোয়া ফুটবলে তিনটি লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। গত তিন মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ক্লাবটির হয়ে ৪২টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ২৯টি গোল করিয়েছেন, যা আক্রমণভাগে তার বহুমুখী কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়।

বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণ করা ও বেড়ে ওঠা সাইবারির ফুটবলের প্রাথমিক পাঠ শুরু হয়েছিল দেশটির বিখ্যাত ক্লাব আন্ডারলেখট এবং জেঙ্কের যুব একাডেমিতে। সেখানে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার পর তিনি নেদারল্যান্ডসের পিএসভি আইন্দহোভেনের যুব বা দ্বিতীয় দলে যোগ দেন। যুব দলে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দ্রুতই তিনি পিএসভির মূল দলে নিজের জায়গা পাকা করেন। ক্লাব ফুটবলের এই নিয়মতান্ত্রিক উত্থানই পরবর্তীতে তাকে মরক্কো জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান ও নিয়মিত সদস্য হতে সাহায্য করে। বায়ার্ন মিউনিখের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তির ক্লাবে এই দলবদল সাইবারির ক্যারিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ