নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ সাবেক সেনাপ্রধানের

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভীতি ছড়ানোর অভিযোগ সাবেক সেনাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দেশটির জনগণের মধ্যে ইরানভীতি ছড়ানোর তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী গাদি আইজেনকোট। তাঁর দাবি, ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে বলে নেতানিয়াহু যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় সূচনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণার পর মধ্য ইসরায়েলে আয়োজিত এক সম্মেলনে গাদি আইজেনকোট এসব কথা বলেন। ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য দেশটির আসন্ন নির্বাচন এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আইজেনকোট বর্তমানে বিরোধী রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার পার্টি’র নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ভয় তৈরি করতেই নেতানিয়াহু বাস্তবতাকে বিকৃত করছেন। তিনি বলেন, ইরানের কাছে কোনো পরমাণু বোমা নেই এবং এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে দাবি করছেন তা সম্পূর্ণ বানোয়াট। একজন দীর্ঘকালীন সামরিক প্রধান হিসেবে আইজেনকোটের এমন মন্তব্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং দেশের অভ্যন্তরে ইরানকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে চিত্রিত করে আসছেন। তবে আইজেনকোটের মতো একজন সাবেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই কৌশলকে ‘ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় সরকারের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইজেনকোটের এই বক্তব্যের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক জোট ‘টুগেদার’-এর নেতা নাফতালি বেনেট। একই সম্মেলনে অংশ নিয়ে বেনেট বলেন, ইরানের কাছে ইতোমধ্যে পরমাণু বোমা রয়েছে বলে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা সত্য নয়। বর্তমান সরকার ইতিহাস ও তথ্য বিকৃত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সাবেক সেনাপ্রধানের এই যৌথ অবস্থান নেতানিয়াহু বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনকালের অবসান ঘটাতে জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতিকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গাদি আইজেনকোট সামরিক বাহিনী থেকে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই নিজেকে একজন বিকল্প ও দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে তাঁর এই অবস্থান মূলত দেশের ভোটারদের আশ্বস্ত করার একটি কৌশল, যাতে প্রমাণিত হয় যে নেতানিয়াহু ছাড়াও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে এই মতবিরোধ আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করছে। নেতানিয়াহু সরকার যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে, সেখানে দেশের ভেতর থেকেই এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ