চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট নিরসন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১৬৮ কন্টেইনার পণ্যের মেগা ই-নিলাম

চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট নিরসন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১৬৮ কন্টেইনার পণ্যের মেগা ই-নিলাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মউপযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, কন্টেইনার জট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে বড় ধরনের নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টম হাউস। আগামী জুলাই (২০২৬) মাসজুড়ে সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ই-অকশন (E-Auction) পদ্ধতিতে দুই দফায় মোট ১৬৮ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, আমদানিকৃত পণ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খালাস না করায় বন্দরে সৃষ্ট কন্টেইনার জট কমাতে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবারের নিলাম প্রক্রিয়ায় দুটি আলাদা ই-অকশনের মাধ্যমে পণ্যসমূহ নিষ্পত্তি করা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত স্থায়ী আদেশ ও বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬ এর অধীনে ৭৬টি লটে মোট ৯৩ কন্টেইনার পণ্য বিক্রির তালিকায় রয়েছে। এই লটগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পণ্য চালানের বিপরীতে কোনো সংরক্ষিত মূল্য বা ‘রিজার্ভড ভ্যালু’ নির্ধারণ করা হয়নি। এই বিশেষ নিলামে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যাদি (কেমিক্যাল), বিটুমিন, শিল্প-কারখানার যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক শিট, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের কাপড়, কাগজ এবং গৃহস্থালি সামগ্রী স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে, নিয়মিত ই-অকশন নং-০৭/২০২৬ এর আওতায় ৫৫টি লটে মোট ৭৫ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ বা মূলধনী যন্ত্রপাতি, উন্নত মানের ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট, এলিভেটর, এয়ার ফিল্টার, ক্রাফট লাইনার পেপার এবং লবণসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য সামগ্রী।

নিলাম কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখতে কাস্টমস প্রশাসন এবার শতভাগ প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। আগ্রহী ক্রেতা বা বিডারদের সুবিধার্থে বিড করার আগে পণ্যসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। ই-অকশন নং-০৭/২০২৬ এর পণ্যসমূহ আগামী ১৩ জুলাই থেকে ২০ জুলাই এবং বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬ এর পণ্যসমূহ ১৬ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সময়ে সরাসরি পরিদর্শন করা যাবে।

অনলাইনে দরপত্র দাখিলের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের ঘরে বসেই কাস্টমসের অফিশিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধিত বিডাররা ই-অকশন নং-০৭/২০২৬ এর জন্য ১২ জুলাই থেকে ২২ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬ এর জন্য ১৪ জুলাই থেকে ২৬ জুলাই বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে পারবেন।

অনলাইন বিডিং প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি পোর্টালে আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল কাগজপত্র কাস্টম হাউসে দাখিল করতে হবে। চূড়ান্তভাবে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিতদের ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪’ এর প্রযোজ্য শর্তাবলি ও আইনি বাধ্যবাধকতা পরিপালন সাপেক্ষে পণ্যসমূহ বন্দর থেকে খালাস করার অনুমতি দেওয়া হবে।

ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নং-০৭/২০২৬ এর ডিজিটাল দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। এর পরবর্তী দফায়, অর্থাৎ ২৭ জুলাই সকাল ১১টায় বিশেষ ই-অকশন নং-০৮/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে খালাস না হওয়া কন্টেইনারের কারণে স্বাভাবিক পণ্য ওঠানামা ব্যাহত হয়। এই ডিজিটাল ও আধুনিক নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন বন্দরের কন্টেইনার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই নিলাম কার্যক্রম দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল করতে এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ