সংসদ অধিবেশনে মোবাইল ফোন ব্যবহারে স্পিকারের কঠোর রুলিং

সংসদ অধিবেশনে মোবাইল ফোন ব্যবহারে স্পিকারের কঠোর রুলিং

জাতীয় সংসদ ডেস্ক

জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার ব্যাপারে সংসদ সদস্যদের (এমপি) কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদীয় রীতিনীতি ও সংসদের মর্যাদা রক্ষার্থে অধিবেশনে এই ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি একটি আনুষ্ঠানিক রুলিং জারি করেছেন।

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর আলোচনা চলছিল। এই আলোচনার একপর্যায়ে একজন সংসদ সদস্যকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখে স্পিকার তাত্ক্ষণিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে সতর্ক করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর রুলিংয়ে বলেন, সংসদ চলাকালে কোনো সদস্যেরই মুঠোফোন ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এটি সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অনুগ্রহ করে সংসদে ফোন ব্যবহার করবেন না। এটি রীতিবিরুদ্ধ। এটি সবার জন্য প্রযোজ্য। সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন, এটাই আমি আশা করি।” স্পিকার আরও যোগ করেন যে, অনেক সদস্য আড়ালে বা লুকিয়ে ফোন ব্যবহারের চেষ্টা করেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু প্রকাশ্য রূপেই এই নিয়ম লঙ্ঘন করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

সংসদীয় ইতিহাস ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, সংসদের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা বা উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়মটি আইনসভার শৃঙ্খলা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে সংসদীয় রীতিনীতির সর্বোচ্চ প্রতিফলন আশা করা হয়, কারণ তাদের কার্যক্রম সাধারণ জনগণের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সংসদ হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। সংসদ অধিবেশন চলাকালে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন আইন এবং নীতি নিয়ে আলোচনা হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সংসদ সদস্যদের মনোযোগ বিচ্যুত হওয়া বা কোনো অননুমোদিত ডিভাইস ব্যবহার করা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী। স্পিকারের এই কঠোর রুলিংয়ের ফলে আগামী দিনগুলোতে সংসদের ভেতরে শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে এবং সংসদ সদস্যরা অধিবেশন চলাকালে আরও বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিন সংসদে যে বিলটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, সেটিও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস অফেন্সেস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ নিয়ে যখন আইনপ্রণেতারা বিভিন্ন সংশোধনী ও জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এই শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনাটি ঘটে। স্পিকারের এই রুলিংয়ের পর সংসদ কক্ষের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং পূর্বনির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী বিলের ওপর আলোচনা পুনরায় শুরু হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ