পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার আপিল শুনানি শেষ, রায় বৃহস্পতিবার

পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার আপিল শুনানি শেষ, রায় বৃহস্পতিবার

আইন ও আদালত ডেস্ক

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ শুনানি শেষে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। টানা তিন দিনব্যাপী নিবিড় শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত জানান।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া। বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই রায়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দেশের আইন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে, গত বছরের ১৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালত এই মামলার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আপিলের অনুমতি (লিভ টু আপিল) দিয়ে নিয়মিত শুনানির পথ সুগম করেছিলেন।

মূল মামলার পটভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর বেশ কিছু অংশকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করেন। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসার আইনি পথ উন্মুক্ত হয়। ২০১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ব্যাপক রদবদল এনেছিল, যার অন্যতম প্রধান দিক ছিল নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ সাধন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতার আংশিক অবসান হলেও কিছু আইনি অস্পষ্টতা ও কার্যকারিতা সংক্রান্ত প্রশ্ন থেকে যায়। ফলশ্রুতিতে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পৃথক তিনটি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়। দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে সুশাসনের জন্য নাগরিক-এর (সুজন) সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি একটি আপিল দায়ের করেন। এ ছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পৃথক দুটি আপিল দাখিল করা হয়েছিল। এই তিনটি আপিলের ওপরই গত তিন দিন ধরে সর্বোচ্চ আদালতে সুদীর্ঘ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় রাজনীতি ও সাংবিধানিক ইতিহাসে ২০১১ সালের ৩০ জুন পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি একটি বড় সমীকরণ পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি রাষ্ট্রধর্ম, জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ এবং অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল রোধে কঠোর শাস্তির বিধানসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয় যুক্ত করা হয়েছিল।

জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে এই আপিল বিভাগের রায়টি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ, সচেতন নাগরিক সমাজ এবং আইনজ্ঞরা অধীর আগ্রহে এই রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন, কারণ এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের নির্বাচনি কাঠামো ও সাংবিধানিক গতিপ্রকৃতি।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ