মেসি-ম্যাজিকে মিসরের বিপক্ষে রেকর্ড ভাঙল আর্জেন্টিনার

মেসি-ম্যাজিকে মিসরের বিপক্ষে রেকর্ড ভাঙল আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের এক রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় ম্যাচে মিসরকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে আর্জেন্টিনা। এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি নতুন কয়েকটি অনন্য রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পুরো ম্যাচে এক গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। অথচ ম্যাচের শুরুটা তার জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশার। প্রথমার্ধের শুরুতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করেন তিনি। তবে সেই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে মাত্র ১৩ মিনিটের ঝোড়ো আক্রমণে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়টি কেবল আর্জেন্টিনার পরের পর্বের পথই মসৃণ করেনি, বরং ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে নিয়ে গেছে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায়।

মিসরের বিপক্ষে এই বিশেষ ম্যাচটিতে লিওনেল মেসি ফুটবল ক্যারিয়ারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রেকর্ড নতুন করে লিখেছেন। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করলেন মেসি। বিশ্বমঞ্চে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ২১-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এই তালিকায় তার ঠিক পেছনেই ১৯টি গোল নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।

শুধু সর্বোচ্চ গোলই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের ধারাবাহিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন এই ফুটবল জাদুকর। কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ৯টি ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জাইরজিনহো টানা ৬ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। মেসি তাদের উভয়কেই ছাড়িয়ে এখন এককভাবে এই বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী হলেন।

গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড থেকে। বক্সের ভেতর বাম দিক থেকে উড়ে আসা বলটিতে দারুণ এক অ্যাসিস্ট করেন মেসি। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়াল ৯-এ। এর ফলে তিনি নিজের দেশেরই প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ৮টি অ্যাসিস্টের দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে নিজের করে নিলেন।

বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যায় পরিণত করে ৩৫-উর্ধ্ব বয়সেও বিশ্বমঞ্চে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন মেসি। মিসরের বিপক্ষে একই ম্যাচে গোল এবং অ্যাসিস্ট করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই ডাবল কীর্তি গড়ার নজির স্থাপন করলেন। এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে সুইডেনের নিলস লিডহোম এই রেকর্ডটির অধিকারী ছিলেন। ৩৫ বছর বয়স পার হওয়ার পর বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন ১৫টি, যা ফুটবলের ইতিহাসে আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচেও মেসির পা থেকে নিয়মিত গোল আসছে। নকআউট পর্বে টানা ৬টি ম্যাচে গোল করার এক নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ইতিপূর্বে ব্রাজিলের লিওনিদাস দা সিলভা, ভাভা এবং হাঙ্গেরির জর্জ সারোসির টানা ৫ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল। সেই বহু বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে মেসি এখন নতুন এক উচ্চতায় আরোহণ করলেন। এছাড়া, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গিয়ের্মো স্তাবিলের গড়া এক আসরে ৮ গোলের যে জাতীয় রেকর্ড ছিল, চলমান আসরে সেই রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন লিওনেল মেসি। পেনাল্টির ভুলকে এক পাশে সরিয়ে রেখে মেসির এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ