ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার রেফারি প্যানেল

ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার রেফারি প্যানেল

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বোস্টনে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও মরক্কো। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার রেফারি নিয়োগের সিদ্ধান্ত। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের পাঁচ সদস্যের পুরো রেফারি প্যানেলই গঠন করা হয়েছে আর্জেন্টিনার অফিশিয়ালদের নিয়ে।

চলতি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম কোনো ম্যাচে একই দেশের রেফারিদের নিয়ে সম্পূর্ণ প্যানেল গঠন করার নজির গড়ল ফিফা। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, মূল রেফারির দায়িত্বে থাকবেন ফাকুন্দো তেলো। মাঠে তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গাব্রিয়েল চাদে। ম্যাচ পরিচালনার চতুর্থ কর্মকর্তা হিসেবে থাকছেন দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিস্টিয়ান নাভারো।

মঙ্গলবার ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একই দেশের সম্পূর্ণ রেফারি প্যানেল নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে ফুটবল সমর্থকদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এমন সিদ্ধান্ত মাঠের খেলায় নিরপেক্ষতা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এই আলোচনার রেশ ধরে ফুটবল অঙ্গনে উঠে এসেছে চলতি আসরে আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর ম্যাচের প্রসঙ্গও। মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ওই ম্যাচে মূল রেফারির দায়িত্বে ছিলেন ফ্রান্সের ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে। সে সময় ম্যাচটি শুরুর আগে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে রেফারি নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। তবে ওই ম্যাচে চতুর্থ কর্মকর্তা ও রিজার্ভ সহকারী রেফারি অন্য দেশের থাকায় বিষয়টি বড় আকার ধারণ করেনি। কিন্তু এবার ফ্রান্সের ম্যাচে পুরো প্যানেলই আর্জেন্টিনার হওয়ায় আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

ফুটবলীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি ভিন্ন মাত্রা লাভ করেছে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই প্রায়শই সংবাদ শিরোনামে আসে। তাছাড়া চলতি আসরের সূচি ও সমীকরণ অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপে এই দুই দলের আবারও মুখোমুখি হওয়ার একটি শক্তিশালী সম্ভাবনা রয়েছে। এমন এক জটিল সমীকরণের আবহে ফ্রান্সের ভাগ্য নির্ধারণী নকআউট ম্যাচে আর্জেন্টিনার রেফারি প্যানেল নিয়োগ পাওয়ায় বিষয়টি বিশ্বব্যাপী ফুটবল অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

সাধারণত বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ফিফা রেফারিদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং নিরপেক্ষতার ওপর ভিত্তি করেই ম্যাচ অফিশিয়াল নিয়োগ দিয়ে থাকে। তবে কৌশলগত কারণে সাধারণত নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বা সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ দেশের রেফারিদের এড়িয়ে চলার একটি অঘোষিত প্রবণতা দেখা যায়। এই ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম ঘটায় ফুটবল মহলে কৌতুহল তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভূত আলোচনা ও নানামুখী গুঞ্জনের বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিশেষ ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করা হয়নি। সংস্থাটি কেবল তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাঠের রেফারিদের সিদ্ধান্ত এবং ফুটবলারদের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের অবসান ঘটাবে। বোস্টনের মাঠে বল গড়ানোর আগে রেফারি প্যানেলের এই সংযুক্তি ম্যাচটিতে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়েও এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ