হত্যাচেষ্টার জবাবে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

হত্যাচেষ্টার জবাবে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুমকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হত্যাচেষ্টা বা আক্রমণের পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের যেকোনো সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও লক্ষ্যবস্তুর দিকে তাক করা রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে হোর্মুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের দিকে বর্তমানে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইরান সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যা বা হত্যাচেষ্টার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।” তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে এক বছর বা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে ইরানের সব এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এলো যখন সম্প্রতি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায়ী কর্মসূচিতে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানপন্থীদের পক্ষ থেকে হত্যার হুমকি সংবলিত ব্যানার ও স্লোগান প্রদর্শন করা হয়েছিল। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও বলেছিলেন যে, যদি ইরানের পক্ষ থেকে তাঁর কোনো ক্ষতি করা হয়, তবে দেশটিতে নজিরবিহীন মাত্রায় বোমাবর্ষণের আগাম নির্দেশনা তিনি দিয়ে রেখেছেন। ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর থেকেই মূলত ট্রাম্প ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। ওমান ও কাতারের মতো আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা যখন ওমান উপসাগর এবং হোর্মুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং কূটনৈতিক আলোচনা বজায় রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই কড়া সামরিক বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক প্রভাব এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চরম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, দুই পক্ষের এমন অনমনীয় অবস্থান ও সামরিক হুমকির ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ