যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

জাতীয় ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মির্জা ফাহিম আহমেদ (৩০) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত বুধবার সকাল ৭টা ৫৩ মিনিটে ভ্যালি এলাকার ল্যাসেন স্ট্রিট ও রেসিডা বুলেভার্ড ইন্টারসেকশনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনটি গাড়ির মধ্যে সৃষ্ট এক সংঘর্ষের জেরে ফাহিমের গাড়িটি মূল সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশের একটি লাইট পোস্টে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত করে। এতে তার গাড়ির সম্মুখভাগ সম্পূর্ণভাবে দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, চালকের আসনে আটকে থাকা ফাহিমকে উদ্ধার করতে পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালাতে হয়। তবে উদ্ধারকারী দল তাকে গাড়ির ভেতর থেকে বের করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় অপর দুটি গাড়ির চালকরাও গুরুতর আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজের পরপরই তাদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত মির্জা ফাহিম আহমেদের দেশের বাড়ি রাজধানী ঢাকার ঝিকাতলা এলাকার ২২/২ তল্লাবাগে। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা মির্জা রবিউল আলম বাবুর সন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে ফাহিম তার মা, বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের পাশাপাশি একটি কর্মসংস্থানে যোগ দেন। অতি সম্প্রতি গত ঈদুল আজহার ছুটিতে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে কর্মজীবনে যোগ দেওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের ছোট ভাই মির্জা তামিম গণমাধ্যমকে জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে আগামী ১১ জুলাই শনিবার ফাহিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

মির্জা তামিম আরও উল্লেখ করেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবং দায়ীদের উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনতে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। একই সাথে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ