যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে মানিকগঞ্জের চরকালিকাপুর মাদ্রাসা

যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে মানিকগঞ্জের চরকালিকাপুর মাদ্রাসা

সারাদেশ ডেস্ক

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনের কারণে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। নদী ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির মূল ভবনের সন্নিকটে চলে এসেছে। যেকোনো মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নির্দেশনায় মাদ্রাসার আসবাবপত্র ও মূল্যবান শিক্ষাসামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে উজানের ঢল ও নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনা নদীর ভাঙন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ভাঙনের তীব্রতায় ইতিমধ্যে মাদ্রাসাটির সীমানা প্রাচীর ও ভবনের সামনের একটি অংশ নদীগর্ভে ধসে গেছে। ভবনের নিচের অংশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় কাঠামোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন রোধে অতি দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিয়ান নূরে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসার জানমাল ও সম্পদ রক্ষার্থে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা বাকি বিল্লাহ জানান, নদী ভাঙনের গতি যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে ভবনটি আর ব্যবহারের উপযোগী বা নিরাপদ নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা পাওয়ার পর পরই প্রতিষ্ঠানের চেয়ার, টেবিল, আলমারি এবং নথিপত্রসহ যাবতীয় মূল্যবান আসবাবপত্র দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে ভাঙন মোকাবিলায় সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান জানান, ভাঙনকবলিত মাদ্রাসা এলাকাটি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাউবোর টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্থানীয় এলাকাবাসী এই কার্যক্রমে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। তাদের মতে, যমুনার প্রলয়ঙ্করী স্রোতের তুলনায় এই সাময়িক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। প্রতি বছরই এই অঞ্চলে নদী ভাঙনের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ জনপদ রক্ষার্থে তারা কেবল সাময়িক জিওব্যাগ ফেলার ওপর নির্ভর না করে, দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ