ক্রীড়া ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতীয় ক্রিকেট দল ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে চরম পারফরম্যান্স বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সফরে এখন পর্যন্ত খেলা ছয়টি ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি তারা। পাঁচটিতে হারের পাশাপাশি একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। বিশেষ করে, ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে টানা দুইবার বিশ্বসেরার মুকুট জেতার পর দলটির এমন নাটকীয় ছন্দপতন ক্রিকেট বিশ্বে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে পরাজয়ের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের কাছে টানা দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করা দলটির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইংল্যান্ডে ভারতের এই বিপর্যয়ের পেছনে স্কোয়াডে বড় ধরনের রদবদলকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বকাপজয়ী দল থেকে বাদ পড়েছেন নিয়মিত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এমনকি স্কোয়াডেও তার জায়গা হয়নি। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে দল এখনও কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পায়নি। এছাড়া ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর অভিষেক করানো হলেও তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সাথে এখনো নিজেকে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি। অধিনায়কত্ব ও স্কোয়াডের এই রদবদল দলের সামগ্রিক ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আভাস দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ড সভায় যোগ দিতে বর্তমানে স্কটল্যান্ডে অবস্থানরত বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া জানিয়েছেন, সফর শেষে দেশে ফেরার পর দলের সার্বিক পারফরম্যান্স নিয়ে একটি জরুরি পর্যালোচনা বৈঠক (রিভিউ মিটিং) করা হবে। তবে চলমান পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাভাবিক ওঠানামা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি একে একটি সাময়িক ‘খারাপ সময়’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিসিসিআই সচিব স্পষ্ট করেছেন যে, এই পর্যালোচনা বৈঠকের একমাত্র এজেন্ডা হবে দলের ভুলত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা এবং তা শুধরে নেওয়া। আগামী ১৯ জুলাই ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে দল দেশে ফেরার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে দল ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিসিসিআই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের অধীনে ভারতীয় ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফ বেশ কিছুটা ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার দায়িত্বকালিন সময়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫, এশিয়া কাপ ২০২৫ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মতো বড় বড় টুর্নামেন্টে ভারত শিরোপা জয় করলেও, দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে দল ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে না। বিশেষ করে টেস্ট ফরম্যাটে দলের অবস্থান বেশ নড়বড়ে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত চক্রের ফাইনাল মিস করার পর বর্তমান চক্রেও ফাইনালের সমীকরণ দলটির জন্য জটিল হয়ে উঠেছে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ পরাজয় দলের নড়বড়ে অবস্থাকেই নির্দেশ করে।
গৌতম গম্ভীরের অধীনে ভারতের তিন ফরম্যাটের দলেই অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সের চেয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে (আইপিএল) দল নির্বাচকদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া নিয়ে ক্রিকেট মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ট্রফি জিতিয়ে গম্ভীর সমালোচকদের জবাব দিলেও, দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দলের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতের এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আজ ১১ জুলাই দুই দলের মধ্যে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে ভারত ও ইংল্যান্ড।


