জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা ‘ডিএমসি ডে-২০২৬’ উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান কলেজের ঐতিহাসিক কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শন করেন এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হোস্টেলের মূল ফটকের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছিলেন। উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর শিক্ষাজীবনে এই হোস্টেলেরই আবাসিক অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ফলে দীর্ঘ সময় পর নিজের পুরোনো বিদ্যাপীঠ ও হোস্টেলে আগমনকে কেন্দ্র করে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
সাক্ষাৎকার ও মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর অতীতের স্মৃতি চারণ করেন। তিনি জানান, অতীতেও ডা. জুবাইদা রহমানের শিক্ষাজীবনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়মিত আসার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। বহু বছর পর পুনরায় একই পথ দিয়ে সহধর্মিণীকে সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার অভিজ্ঞতাকে একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সাথে দেশের চিকিৎসা খাতের ভবিষ্যৎ কর্ণধার হিসেবে বর্তমান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠার সাথে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান এবং তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল ও কলেজ ক্যাম্পাসে কাটানো তাঁর অতীত দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও টানাপোড়েন পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মনের ভেতর নেতিবাচকতা বা ক্ষোভ পুষে না রেখে মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।
দেশের চিকিৎসাসেবা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মানোন্নয়নের ওপর তাগিদ দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রের একটি অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা ও গবেষণার মানকে এমন এক বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যেন আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও মান নিয়ে গৌরব করা যায়। তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের চিকিৎসক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তাঁদের সাথে গ্রুপ ছবি ও সেলফিতে অংশ নেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই পরিদর্শনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রবীণ ও নবীন চিকিৎসকবৃন্দ এবং হোস্টেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


