না ফেরার দেশে অস্কারজয়ী প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী ব্রেন্ডা ফ্রিকার

না ফেরার দেশে অস্কারজয়ী প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী ব্রেন্ডা ফ্রিকার

বিনোদন ডেস্ক

বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম ব্রেন্ডা ফ্রিকার। অভিনয়শৈলীর জাদুতে বিশ্বমঞ্চে আয়ারল্যান্ডের পতাকা সমুন্নত করা এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী ৮১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। দীর্ঘ সময় শারীরিক অসুস্থতায় ভোগার পর গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার প্রতিনিধি।

১৯৪৫ সালে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ব্রেন্ডা ফ্রিকারের অভিনয়ের হাতেখড়ি হয় ১৯৬০-এর দশকে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে। অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে তিনি আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মঞ্চনাটক এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি আসে আশির দশকের শেষভাগে। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পরিচালক জিম শেরিডানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘মাই লেফট ফুট’-এ ব্রিজেট ফ্যাগন ব্রাউন চরিত্রে তার অনবদ্য অভিনয় তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমি পুরস্কার বা অস্কার অর্জন করেন। অস্কারের ইতিহাসে প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে এই পুরস্কার জেতার গৌরব অর্জন করেছিলেন তিনি।

‘মাই লেফট ফুট’ চলচ্চিত্রটি কেবল ব্রেন্ডা ফ্রিকারের ক্যারিয়ারেই নয়, আইরিশ চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশেও এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে পরিচালক জিম শেরিডান বলেন, অভিনয়ের জগতে ব্রেন্ডা ছিলেন অনন্য প্রতিভার অধিকারী। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত দৃঢ়চেতা এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্বের মানুষ হিসেবে তিনি সহকর্মীদের কাছে সম্মানিত ছিলেন।

পরবর্তী সময়ে ব্রেন্ডা ফ্রিকার হলিউডের চলচ্চিত্রেও সমানতালে কাজ করে গেছেন। ‘দ্য ফিল্ড’, ‘এ টাইম টু কিল’, ‘সো আই ম্যারিড অ্যান অ্যাক্স মার্ডারার’ এবং ‘হোম অ্যালোন ২: লস্ট ইন নিউ ইয়র্ক’ এর মতো আলোচিত সিনেমায় তার অভিনয় দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। বিশেষ করে ‘হোম অ্যালোন ২’ চলচ্চিত্রে ‘পিজন লেডি’ চরিত্রে তার আবেগঘন অভিনয় আজও বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।

ব্যক্তিগত জীবনে ব্রেন্ডা ফ্রিকার ছিলেন প্রচারবিমুখ এবং স্বভাবজাত রসবোধের অধিকারী। তার এই অনাড়ম্বর জীবনযাপন এবং খ্যাতিকে তুচ্ছ করার মানসিকতা ছিল এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। অস্কার জয়ের পর পুরস্কারটি তিনি দীর্ঘদিন তার বাড়ির রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এটি তার বসার ঘরের শেলফে স্থান পায়। নিজের সাফল্য নিয়ে তার এই নির্লিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনকে সহজভাবে দেখার প্রবণতা তাকে সমসাময়িক অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছিল।

ডাবলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু গ্রেইন হামফ্রিস ব্রেন্ডা ফ্রিকারের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে বলেন, তিনি ছিলেন একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী। অভিনয় জগতে তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আয়ারল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে টিকে থাকবেন। তার অকাল প্রস্থান এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও, তিনি রেখে গেছেন অসংখ্য কালজয়ী কাজ, যা আগামী প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ