ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজারের অধিক

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজারের অধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় চলতি বছরের জুন মাসে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আহত হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ৭৪০ জন। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে রদ্রিগেজ জানান, গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূকম্পনের তীব্রতায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে ইতিমধ্যে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে দুর্গত এলাকায় ১০৬টি অস্থায়ী শিবির স্থাপন করা হয়েছে। এসব শিবিরে বর্তমানে ২১ হাজার ২৩৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তবে রদ্রিগেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও ১৭ হাজার ৯০৭ জন মানুষ স্থায়ী আবাসনের বাইরে রয়েছেন, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রভাবে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ। সরকারি হিসাবে, এ পর্যন্ত ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। ধসে পড়া এসব ভবনের নিচে চাপা পড়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার কারণে ত্রাণ বিতরণের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে বলে জানা গেছে।

ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ। তবে জুন মাসে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব ছিল অত্যন্ত ব্যাপক, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পথে থাকলেও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হবে। গৃহহীন হয়ে পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং ধসে পড়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার জরুরি তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা তদারকি করার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত জরুরি অবস্থা এবং উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পরিষদ।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ