ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন ও রকেট হামলা: নিহত ৮, উত্তেজনা তুঙ্গে

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন ও রকেট হামলা: নিহত ৮, উত্তেজনা তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে শুক্রবার ভোরে এক ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ইরানি কুর্দি সশস্ত্র বিরোধী সংগঠন ‘কোমালা’-এর আট সদস্য নিহত হয়েছেন। নির্বাসিত এই সংগঠনটি সরাসরি ইরানকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

কোমালা দলের নেতা ইদ্রিস কোলওয়াজির বরাতে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার ভোররাতে সুলাইমানিয়াহ শহরের অদূরে অবস্থিত সংগঠনটির একটি শিবির এবং আশপাশের এলাকায় ইরান ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করে এই হামলা চালায়। হামলায় নিহতের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে এটি অন্যতম বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই শক্তির ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুর্দিস্তান অঞ্চলটি বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম এবং নির্বাসিত ইরানি কুর্দি বিদ্রোহীদের অবস্থানের কারণে এলাকাটি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। অতীতে ইরান এবং ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে বহুবার হামলা চালিয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এর ফলে কুর্দি বিরোধী সংগঠনগুলো তাদের অধিকাংশ ঘাঁটি ও শিবির খালি করে ফেলেছিল। তবে তেহরান দাবি করে আসছে যে, এসব সংগঠন পশ্চিমা দেশ ও ইসরাইলের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে কাজ করছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইরান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও নিয়মিতভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবারের এই হামলাকে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা গত কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

একই সময়ে ইরাকের কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী জোটের উপস্থিতি লক্ষ্য করে সিরিজ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর তথ্যমতে, শুক্রবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিট থেকে ৫টা ২৫ মিনিটের মধ্যে জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এরবিলের আকাশে আটটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ভূপাতিত করে। একই সপ্তাহের বুধবার রাতেও এরবিলে অনুরূপ আটটি ড্রোন ধ্বংস করার ঘটনা ঘটেছিল।

এরবিল শহরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কনস্যুলেট কমপ্লেক্স এবং বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সামরিক উপদেষ্টাদের ঘাঁটি রয়েছে। গত বুধবারের হামলায় মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়। এ পর্যন্ত এরবিলের এসব হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক জোটের ব্যানারে সক্রিয় বিভিন্ন ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরানের সমর্থনে ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে কয়েকশ বার হামলা চালিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এ ধরনের ঘনঘন সামরিক কর্মকাণ্ড দেশটিতে বিদ্যমান নিরাপত্তার নাজুক অবস্থাকেই নির্দেশ করছে। একদিকে ড্রোন প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং অন্যদিকে ইরান ও মার্কিন শক্তির ক্রমাগত সংঘাতের ফলে ইরাকের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক কোনো সমাধান না এলে এই অঞ্চলে সংঘাতের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ