গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এক নারী বন্দীর পলায়ন

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এক নারী বন্দীর পলায়ন

অপরাধ ডেস্ক

গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোছা. রিম্পা (২১) নামের এক নারী বন্দী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্তকে আটকের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কারাসূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে কারাগারের ভেতর নিয়মিত তল্লাশি ও গণনা চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রিম্পাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নজরে এলে কারা কর্তৃপক্ষ কারাগারের প্রতিটি ওয়ার্ড, সেল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়। দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালিয়েও তাঁর কোনো হদিস না মেলায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তিনি কারাগারের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে পালিয়েছেন।

পলাতক বন্দী মোছা. রিম্পার বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকায়। ঢাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া রায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।

ঘটনার পর শুক্রবার বিকেলে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন জানান, কারা কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিবরণ দিয়ে থানায় মামলা করেছে। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিম্পাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং কারাগারের বাইরের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

কারাগারের মতো কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে একজন বন্দীর পলায়নের ঘটনাটি কারাপ্রশাসনের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে বন্দীদের অবস্থানের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের আগে থেকেই রিম্পা কীভাবে সবার অগোচরে কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার শিরিন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পলায়নের ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং বর্তমানে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অনুসন্ধান নিয়ে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।

এদিকে, কারাগার থেকে বন্দী পলায়নের এই ঘটনার পর কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। কারাগারের প্রধান ফটকসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বন্দীদের চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগার থেকে বন্দী পলায়নের ঘটনা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যর্থতাই নয়, এটি প্রশাসনিক দুর্বলতারও বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে নারী কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে ধরনের কঠোর নজরদারি থাকার কথা, সেখানে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি রাখে। ঘটনার পর কারা সদর দপ্তর থেকেও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনার দায়বদ্ধতা নিরূপণে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান চলছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত পলাতক ওই নারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁকে আটকের জন্য মেহেরপুরসহ তাঁর সম্ভাব্য সকল ঠিকানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ