অপরাধ ডেস্ক
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় হোসাইন আহমেদ (২২) নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার মশরহাটী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হোসাইন আহমেদ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি অভয়নগরের নওয়াপাড়া বেতার কোনা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় হোসাইন আহমেদ মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে মশরহাটী এলাকার রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। একই সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৌসুমী ইয়াসমিন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির (জিআরপি) উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর তাঁদের কাছে পৌঁছায়নি।
রেললাইনে মুঠোফোন ব্যবহার করা বা মনোযোগের অভাব দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও অসতর্কতার কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। রেললাইন দিয়ে হাঁটা বা রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় মুঠোফোন ব্যবহারসহ অসতর্কতা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত সচেতনতামূলক প্রচারণার গুরুত্ব বাড়ছে। দুর্ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


