জাতীয় ডেস্ক
কক্সবাজারের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ১১টায় তিনি এই উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সূচনা করেন। এর আগে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি বিশেষ ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি প্রকল্প এলাকায় যান এবং সুইচ টিপে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন।
কক্সবাজারের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে পাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া এই খালটি খননের ফলে স্থানীয় হাজার হাজার একর ফসলি জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং বর্ষা মৌসুমে উপকূলীয় অঞ্চলের বন্যার ঝুঁকি হ্রাস পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা।
পাতলী খালের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী মাছুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন। এর মাধ্যমে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গৃহীত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের বনাঞ্চলের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বছর রেকর্ডসংখ্যক চারা রোপণের এই মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। পরিবেশবিদদের মতে, উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে এই কর্মসূচির সূচনা দেশের সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বিগত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত কক্সবাজারের শহিদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত করেন। তিনি শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শহিদ ওয়াসীমের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
সফরের দ্বিতীয় অংশে প্রধানমন্ত্রী নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নতুন মাতামুহুরী উপজেলার প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক সুবিধার্থে এবং নাগরিক সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন এই উপজেলা ও পৌরসভার সীমানা বিন্যাস করা হয়েছে। এই অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।
বিকালে প্রধানমন্ত্রীর চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত একটি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা পরিদর্শন করবেন। এরপর সন্ধ্যায় কক্সবাজারের সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। দিনভর নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচি সমাপ্ত করে আজ রাতেই বিমানযোগে ঢাকা প্রত্যাবর্তনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।


