আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে সাধারণ প্রবাসী ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির অভিযোগে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ রেসিডেন্স অ্যাফেয়ার্স ইনভেস্টিগেশন বিভাগ দীর্ঘ অনুসন্ধান ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রটিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের রাজস্ব স্ট্যাম্প নিখুঁতভাবে জাল করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে, তারা মূলত কুয়েতের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের টার্গেট করত। সাধারণ প্রবাসী ও নাগরিকরা যাতে সহজে এবং কম খরচে কাজ শেষ করতে পারেন, সেই সুযোগটি নিত এই চক্র। তারা ৫ ও ১০ কুয়েতি দিনার সমমূল্যের সরকারি স্ট্যাম্পগুলো আসল দামের চেয়ে বেশ কম মূল্যে বিক্রির প্রলোভন দেখাত। কম মূল্যে স্ট্যাম্প পাওয়ার আশায় অনেক প্রবাসী ও সেবাপ্রার্থী এই প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে চক্রটি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে রেসিডেন্স অ্যাফেয়ার্স ইনভেস্টিগেশন বিভাগের বিশেষ দল অভিযুক্তদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প তৈরির একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাপটপ, বিশেষায়িত প্রিন্টার এবং বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প তৈরির উপযোগী উন্নত মানের কাগজ ও ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিবিড় তদন্তে উঠে এসেছে যে, জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত এই বিশেষ স্ট্যাম্পের কাগজের রোলগুলো কুয়েতেরই একটি স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল থেকে কৌশলে চুরি করা হয়েছিল। সরকারি আসল কাগজ ব্যবহারের কারণেই জাল স্ট্যাম্পগুলো খালি চোখে চেনা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন ছিল।
কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী আবাসন ও অর্থ সংক্রান্ত জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত সমস্ত আলামত, ল্যাপটপ এবং প্রিন্টারসহ আসামিদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের শুনানির পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং কারাদণ্ড শেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) মতো প্রক্রিয়া কার্যকর হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ, রাষ্ট্রীয় নথিপত্র জালিয়াতি কিংবা কুয়েত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তার পরিপন্থী যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধে জড়িতদের জাতীয়তা বিবেচনা না করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের ভাবমূর্তি রক্ষায় স্থানীয় দূতাবাস ও প্রবাসীদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।


