জাতীয় ও আঞ্চলিক ডেস্ক
আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের আটটি অচল আঞ্চলিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। জনগণের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব বিমানবন্দরের অবকাঠামো, যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজ চলছে। উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়াকে একটি এভিয়েশন হাব বা আন্তর্জাতিক মানের কার্গো পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বোর্ড সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭-৮০০-সহ বড় আকারের যাত্রী ও কার্গো উড়োজাহাজ ওঠানামার জন্য এখানে ১০ হাজার ৫০০ ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটিতে আধুনিক টার্মিনাল ভবন, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও কার্গো কমপ্লেক্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নকশা ও কারিগরি সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েক শত একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা থাকা এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
অন্যদিকে, ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি আধুনিকায়নে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে জমি অধিগ্রহণ, রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং নতুন টার্মিনাল ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল বিমানবন্দরটি পরিদর্শন করেছে।
বগুড়া ও ঠাকুরগাঁও ছাড়াও লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, মৌলভীবাজারের শমশেরনগর, বাগেরহাটের খানজাহান আলী এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বেবিচক থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু রয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিমানবন্দরের লাভ-ক্ষতি শুধু নিজস্ব রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। একটি সচল বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে হোটেল, পরিবহন, পর্যটনসহ বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়। যেমন, শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্প এবং ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যাতায়াত সহজ হবে। নতুন এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


