আদাবরে পুলিশকে কুপিয়ে জখম ও ছিনতাই: দুই গ্রুপের শীর্ষ নেতাসহ গ্রেফতার ৬

আদাবরে পুলিশকে কুপিয়ে জখম ও ছিনতাই: দুই গ্রুপের শীর্ষ নেতাসহ গ্রেফতার ৬

অপরাধ ডেস্ক

রাজধানীর আদাবরে বিকাশের দোকানে ডাকাতি এবং বাধা দিতে যাওয়া পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ২ কর্মকর্তাকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি কুখ্যাত অপরাধী চক্রের মূল হোতাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-২)। গতকাল আদাবরের শেখেরটেক-৭ এলাকায় একটি বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ‘এক্সেল বাবু’ গ্রুপের প্রধান ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে এক্সেল বাবু (৫৭), এবং ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপের দ্বিতীয় প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাইদ (৩৩)। এছাড়া তাদের সহযোগী রাশেদ খন্দকার (৩২), মো. লিটন (২৮), মো. তৌসিফ (৩০) ও মো. তরিকুল ইসলামকে এই অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গতকাল আদাবর থানার শেখেরটেক-৭ এলাকায় অবস্থিত একটি মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) এজেন্টের দোকানে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতে প্রবেশ করে। তারা দোকানের দায়িত্বে থাকা এজেন্টকে ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা কাউন্টারে থাকা নগদ ৩ লাখ টাকা এবং একাধিক মূল্যবান মোবাইল ফোন লুটে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের আস্তানায় অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা চারপাশ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিতে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে সন্ত্রাসীদের ধারালো চাপাতির আঘাতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ গুরুতর জখম হন। আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশের ওপর হামলার পর র‍্যাব-২ ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত এই ছয়জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘এক্সেল বাবু’ এবং ‘কব্জিকাটা আনোয়ার’ গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের জিম্মি করে আসছিল। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় অপরাধ চক্রের আধিপত্য বিস্তার ও নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং এই ধরনের কিশোর গ্যাং ও পেশাদার অপরাধী চক্রের মূলোৎপাটনে তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ধৃত ব্যক্তিদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড ও মামলার বিবরণী যাচাই করে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ