জাতীয় ডেস্ক
নাগরিকদের দোরগোড়ায় সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং রাজস্ব সার্কেল পর্যায়েও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একযোগে এই মেলার কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী মেলার কার্যক্রম চলবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ভূমিসেবা মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’। মূলত সনাতন ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তৃণমূল মানুষের কাছে পরিচিত করানোর উদ্দেশ্যে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। সংবাদ সম্মেলনে ভূমিমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা এবং ভীতি কাজ করত। বিশেষ করে মামলা-মোকদ্দমা, মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ গ্রামীণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বর্তমান সরকার সেই প্রচলিত অব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিকরা যেন ঘরে বসেই অধিকাংশ ভূমিসেবা সহজে লাভ করতে পারেন। ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে কাউকেই যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং দ্রুততম সময়ে সেবাপ্রত্যাশীরা সেবা পান, সেই লক্ষ্যেই ডিজিটালাইজেশন তথা অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এই মেলা নাগরিকদের ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার সাথে সরাসরি পরিচিত হওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী জানান, এবারের মেলায় নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ও সরাসরি (সশরীরে) সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্টলগুলো থেকে নাগরিকরা ই-নামজারি, খতিয়ান বা পর্চার আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রদান এবং ডিজিটাল ভূমি সোসাইটির বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত তথ্য সরাসরি জানতে পারবেন। একই সাথে তাৎক্ষণিকভাবে অনেক সেবা নিষ্পত্তি করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশব্যাপী এ ধরনের মেলা আয়োজনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিসংক্রান্ত আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ার কারণে ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


