অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল আকস্মিক বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। আজ সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের কারণে রাজশাহী বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মানুষ বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে রফিকুল ইসলাম পাখি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুমিনুল ইসলাম মুমিনকে মনোনীত করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিক্ষুব্ধ সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, সাধারণ সদস্যদের কোনো মতামত বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এই পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে। শ্রমিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় তারা বর্তমান ঘোষিত কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে একটি আহ্বায়ক বা এডহক কমিটি গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন, যা পরবর্তীতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন করবে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্থানীয় জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট ও লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
পরিবহন শ্রমিকদের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আগাম নোটিশ ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন রোগী, চাকুরিজীবী ও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। দূরপাল্লার টিকিট কেটেও অনেকে কাউন্টারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজশাহী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো মূল্যে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে এবং অচলাবস্থা নিরসনে স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ও আলোচনা শুরু করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান বা বাস চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।


