রাজনীতি ডেস্ক
আওয়ামী লীগের দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে আয়োজিত এক পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যে দলের প্রধানরা দেশের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে ফেলে পালিয়ে যায়, তাদের এদেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে না। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ মতভেদাভেদ থাকতে পারে, তবে আওয়ামী লীগের বিষয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ। দেশে এই দলকে আর কখনো রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ দেশেই চিকিৎসা ও শিক্ষা গ্রহণ করে। অন্যদিকে, সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের সন্তানরা বিদেশে চিকিৎসা ও পড়াশোনার সুবিধা নিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিটি সেক্টরে মেধাবীদের স্থান দিতে হবে এবং বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্প খাতকে গতিশীল করতে আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় দাবি অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।
পুলিশ প্রশাসনের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখার অপরাধে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমান সময়েও এর পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।
চৌদ্দগ্রামকে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা উল্লেখ করে মাদক পাচার ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। পুলিশ প্রশাসনকে আধুনিকায়ন করে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে থানায় মাদক ব্যবসায়ীদের দালালি বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় যুব শক্তির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রায়হানের সভাপতিত্বে এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন মজুমদারের পরিচালনায় পদযাত্রায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাভীদ নওরোজ শাহ, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খালেদ, এনসিপি নেতা মাসুমুল কাউছার, জাতীয় যুব শক্তির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমন্বয়ক জাহিদুল তালুকদার, এনসিপি নেতা মো. হানিফ পাটোয়ারী এবং আরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


