জাতীয় ডেস্ক
জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে এই বাহিনীকে আরও পেশাদার ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানী ঢাকার উত্তরায় র্যাব সদরদপ্তরে বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এছাড়া বিভিন্ন সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই গৌরবময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে র্যাব মহাপরিচালক বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে র্যাব দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্যের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, ডাকাতি, ছিনতাই, মানবপাচার ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামী দিনগুলোতে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ ও আধুনিক অপরাধ দমনে র্যাবকে আরও দক্ষ করে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে গত এক বছরের আভিযানিক সাফল্য এবং সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের ওপর একটি বিশেষ ভিডিও তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে র্যাবের ভূমিকার চিত্র তুলে ধরা হয়। এরপর প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন এবং পরে আয়োজিত প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (তৎকালীন বিডিআর), কোস্ট গার্ড এবং আনসার বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে এই যৌথ বাহিনীটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত দুই দশকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বাহিনীটি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির আলোকে র্যাবের মতো একটি বিশেষায়িত বাহিনীকে আধুনিকায়ন করা সময়ের দাবি। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সংগতি রেখে বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন এলিট ফোর্সটির ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন গতিবেগ সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


