আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারত ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহসিকতা দেখালে দেশটির ভূগোল ও মানচিত্র বদলে দেওয়া হবে এবং দেশটি ইতিহাসের অংশ হয়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সাম্প্রতিক এক দ্বিপাক্ষিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন, যা দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশীর মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনাকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
খাজা আসিফ দাবি করেন, গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দেশের মধ্যে টানা ১৯ দিনব্যাপী যে সামরিক সংঘাত হয়েছিল, তাতে ভারতের অপমানজনক পরাজয় ঘটেছে। সেই পরাজয়ের ফলে ক্ষুণ্ন হওয়া সামরিক ও জাতীয় সম্মান পুনরুত্থানের লক্ষ্যেই ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান বিতর্কিত বক্তব্য দিচ্ছেন। পাকিস্তানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও মর্যাদা এখন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
উল্লেখ্য, গত বছর ২২ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ভারতের প্রাথমিক আগ্রাসনের জবাবে তারা ‘অপারেশন বুনইয়ান-উম-মারসুস’ নামে একটি ব্যাপকভিত্তিক পালটা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা স্থায়ী এই তীব্র আকাশ ও স্থল সংঘাত চলাকালীন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা ভারতের রাফালসহ আটটি যুদ্ধবিমান এবং একাধিক সামরিক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করে। পরবর্তীতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় ১০ মে দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের বর্তমান অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লির ক্ষয়িষ্ণু আঞ্চলিক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে ভারত ঐতিহাসিকভাবে নিজেদের একক প্রভাব বলয়ের অংশ মনে করত। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের ফলে এই দেশগুলোর সাথে ভারতের পূর্বের সেই একচেটিয়া ও আধিপত্যবাদী সম্পর্ক আর বজায় নেই। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে ভারতের এই কূটনৈতিক দূরত্ব ইসলামাবাদকে এই অঞ্চলে একটি ‘সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান’ তৈরিতে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে, যা দিল্লির পক্ষে সহজে মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
একই সাথে এই অঞ্চলে ইসরাইল ও ভারতের মধ্যকার অক্ষ বা দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সমন্বয়ের তীব্র সমালোচনা করেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এই দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইসরাইল কখনোই চায় না যে এই অঞ্চলে তাদের পরম মিত্র ভারতের চেয়ে সামরিক বা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অন্য কোনো রাষ্ট্রের উত্থান ঘটুক। বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ভারত ও ইসরাইলের লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ এক এবং অভিন্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার ভঙ্গুর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে। ভারত ও পাকিস্তানের মতো দুটি পারমাণবিক পরাশক্তির মধ্যে এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য আঞ্চলিক শান্তি, স্থায়িত্ব এবং সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


