তৃতীয় দেশে অভিবাসী স্থানান্তর: যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের চুক্তিতে নতুন বিতর্ক

তৃতীয় দেশে অভিবাসী স্থানান্তর: যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের চুক্তিতে নতুন বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (সিএআর) বিতর্কিত চুক্তির আওতায় প্রথম দফায় প্রায় দুই ডজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে লুইজিয়ানা থেকে চার্টার্ড ফ্লাইটে এই অভিবাসীদের মধ্য আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত ও চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটিতে পাঠানো হয়। এই তালিকায় ইরান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, তুরস্ক, জর্ডান, আর্মেনিয়া এবং জর্জিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংঘাতের মধ্য দিয়ে যাওয়া মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই দেশে তৃতীয় দেশের নাগরিকদের স্থানান্তরের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার ও আইনি মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, স্থানান্তরিত অভিবাসীদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন যারা আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার প্রাথমিক আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন।

মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আইনি সুরক্ষা পাওয়া অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে। স্থানান্তরিতদের মধ্যে কয়েকজন ইরানি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারী গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের কর্মী এবং অন্যজন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণকারী। আইনজীবীদের তথ্যমতে, এই নাগরিকরা নিজ দেশে ফেরত গেলে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। মার্কিন অভিবাসন আদালত পূর্বেই তাদের ‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল’ বা বহিষ্কারাদেশ স্থগিতকরণ সংক্রান্ত আইনি সুরক্ষা দিয়েছিল। এই সুরক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অভিবাসী নিজ দেশে ফিরে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন এমন প্রমাণ থাকলে তাকে সেখানে ফেরত পাঠানো যায় না। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তাদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর নীতি গ্রহণ করেছে। আইনি সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এই স্থানান্তরের ফলে অভিবাসীরা চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের পূর্বের দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিবাসন নীতির আওতায় মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ এ পর্যন্ত আফ্রিকার অন্তত নয়টি দেশের সঙ্গে প্রায় গোপন চুক্তি সই হয়েছে। এর আগে কঙ্গো, রুয়ান্ডা ও উগান্ডার মতো দেশের সঙ্গেও একই ধরনের সমঝোতা করেছে ওয়াশিংটন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এই চুক্তিগুলোর বিস্তারিত প্রক্রিয়া অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং এতে স্বচ্ছতার চরম অভাব রয়েছে। ফলে স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের মৌলিক মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন লঙ্ঘনের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ে পৌঁছানোর পর স্থানান্তরিত অভিবাসীদের একটি ফায়ার ফাইটার্স ঘাঁটিতে এবং নির্দিষ্ট কিছু আবাসে সাময়িকভাবে রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের মানবিক সহায়তা প্রদান করছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তির অধীনে শত শত অভিবাসীকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সংঘাতপূর্ণ দেশটিতে রাশিয়ার শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ