অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা ডেস্ক
ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মোট ২ হাজার ১১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ৩৯৫টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩১৭টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের আটটি জোনে একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। মহানগরীর সড়কগুলোতে যত্রতত্র পার্কিং, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালনা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধ দমনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া জোনভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরা ও মিরপুর এলাকায় আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা এবং মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৭৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২টি বাস, ৫টি ট্রাক, ২৬টি কাভার্ডভ্যান, ৮৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ২৭৮টি মোটরসাইকেল রয়েছে। এর পরেই উত্তরা বিভাগে ৪৫১টি মামলা করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে ২৯টি বাস, ১টি ট্রাক, ১৫টি কাভার্ডভ্যান, ৯৩টি সিএনজি এবং ১৮৫টি মোটরসাইকেল। মিরপুর বিভাগে দায়ের করা ৪০৫টি মামলার মধ্যে ৫টি বাস, ১০টি ট্রাক, ২১টি কাভার্ডভ্যান, ৫৬টি সিএনজি এবং ২৫৮টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ২১৩টি মামলার বিপরীতে ২৮টি বাস, ৮টি ট্রাক, ৯টি কাভার্ডভ্যান, ২৫টি সিএনজি ও ৬৬টি মোটরসাইকেল জব্দ ও জরিমানা করা হয়। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৯৫টি মামলার মধ্যে রয়েছে ২১টি বাস, ১৫টি ট্রাক, ১৭টি কাভার্ডভ্যান, ২৬টি সিএনজি ও ৬৮টি মোটরসাইকেল। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৫৯টি মামলার আওতায় ২৪টি বাস, ৮টি ট্রাক, ১টি কাভার্ডভ্যান, ১৯টি সিএনজি ও ৮১টি মোটরসাইকেলকে শাস্তির আওতায় আনা হয়। এছাড়া ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৪৭টি (১০টি বাস, ৪টি ট্রাক, ১০টি কাভার্ডভ্যান, ২২টি সিএনজি ও ৫৬টি মোটরসাইকেল) এবং ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৬৭টি (৩টি বাস, ৫টি কাভার্ডভ্যান, ১০টি সিএনজি ও ৩৪টি মোটরসাইকেল) মামলা নিবন্ধিত হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও ট্রাফিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে তীব্র যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ চালকদের আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো। মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, যা এই পরিসংখ্যানের বিশাল মোটরসাইকেল মামলার সংখ্যা থেকেই স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল জরিমানা নয়, বরং লাইসেন্স বাতিলসহ আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। আইনের প্রতি চালক ও পথচারীদের শ্রদ্ধাশীল করতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এই নিয়মতান্ত্রিক ও কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।


