আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোর দিকে নজর বার্সেলোনার

আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোর দিকে নজর বার্সেলোনার

ক্রীড়া ডেস্ক

ইউরোপীয় ফুটবলের আগামী মৌসুমকে সামনে রেখে নিজেদের স্কোয়াড পুনর্গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। আক্রমণভাগে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে কাতালান ক্লাবটিতে। বিশেষ করে দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদোস্কির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ব্রাজিলীয় তরুণ ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোর নাম গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

বর্তমান স্কোয়াডে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বার্সেলোনার ক্রীড়া বিভাগ ইতোমধ্যেই দলবদলের বাজারে সক্রিয় হয়েছে। ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক ডেকোর নেতৃত্বে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শীর্ষতালিকায় রয়েছেন জোয়াও পেদ্রো। মূলত তার গতি, গোল করার দক্ষতা এবং মাঠের বিভিন্ন পজিশনে খেলার সক্ষমতা বার্সেলোনা ম্যানেজমেন্টকে আকৃষ্ট করেছে।

বার্সেলোনার বর্তমান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক দলের আক্রমণভাগের গভীরতা বাড়াতে আগ্রহী। দীর্ঘ মৌসুমে ইনজুরি সমস্যা এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কাটাতে তিনি এমন একজন স্ট্রাইকার খুঁজছেন, যিনি নিয়মিত গোল করার পাশাপাশি দলের কৌশলগত পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবেন। বার্সেলোনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় একজন তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল স্ট্রাইকার অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জোয়াও পেদ্রোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তার প্রতি বার্সেলোনার এই আগ্রহের প্রধান কারণ। ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটন থেকে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম শক্তিশালী দল চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ক্লাব বিশ্বকাপে তার নৈপুণ্য ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়েছিল। চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৪৯টি ম্যাচ খেলেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এর মধ্যে ২৬টি গোল করার পাশাপাশি ৬টি গোলে সরাসরি সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করেছেন তিনি। একজন আধুনিক ফরোয়ার্ড হিসেবে তার এই পরিসংখ্যান ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর জন্য যথেষ্ট আকর্ষণীয়।

তবে এই দলবদল প্রক্রিয়াটি বার্সেলোনার জন্য খুব একটা সহজ হবে না। চেলসির সাথে পেদ্রোর চুক্তির মেয়াদ এবং তার বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় নিলে একটি বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফির প্রয়োজন হতে পারে। বার্সেলোনার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং লা লিগার সংবিধিবদ্ধ নিয়মের মধ্যে থেকে এই চুক্তি সম্পন্ন করা ক্লাবটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও, লেভানদোস্কির উত্তরসূরি খুঁজে পাওয়া এবং আক্রমণভাগকে আরও ধারালো করার লক্ষ্য থেকে বার্সা কর্তৃপক্ষ পেদ্রোকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বার্সেলোনার এই পরিকল্পনার প্রভাব পড়তে পারে দলের বর্তমান কৌশলেও। ফ্লিক যদি পেদ্রোকে দলে পান, তবে উইং এবং সেন্টার-ফরোয়ার্ড—উভয় পজিশনেই তিনি রদবদল করার সুযোগ পাবেন। এটি দলের সামগ্রিক খেলায় নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডেকো এবং চেলসি কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ফুটবলে গ্রীষ্মকালীন দলবদল শুরু হওয়ার আগেই বার্সেলোনার এমন প্রস্তুতি স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা আগামী মৌসুমে ঘরোয়া লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। জোয়াও পেদ্রোর মতো একজন উদীয়মান তারকাকে ন্যু ক্যাম্পে আনা সম্ভব হলে তা বার্সেলোনার জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে। এখন দেখার বিষয়, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বার্সেলোনা এই ব্রাজিলিয়ান সেনসেশনকে দলে ভেড়াতে কতটা সফল হয়।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ