রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রুশ কর্মীর মৃত্যু: নেপথ্যে হৃদরোগের ধারণা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রুশ কর্মীর মৃত্যু: নেপথ্যে হৃদরোগের ধারণা

জাতীয় ডেস্ক

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চুরকিন ভ্লাদিমির (৪০) নামে এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকল্পের গ্রিন সিটি আবাসিক এলাকায় ব্যায়াম করার সময় তিনি আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চুরকিন ভ্লাদিমির রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটমটেক এনার্গো’তে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নতুনহাট গ্রিন সিটি আবাসিকের অভ্যন্তরে ব্যায়াম করছিলেন ভ্লাদিমির। এ সময় তিনি তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে এটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা, তা নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিশ্টিত করা হয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দূতাবাস এবং রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মরদেহ রাশিয়ায় তার পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপপুর প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিক কর্মরত থাকায় তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। এ ধরনের আকস্মিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে সাধারণত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ও দূতাবাস যৌথভাবে কাজ করে থাকে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে কয়েক হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন। ইতিপূর্বেও এই প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বার্ধক্যজনিত বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যার প্রতিটিতেই ময়নাতদন্ত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। চুরকিন ভ্লাদিমিরের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ