মেহেরপুরে অনলাইন ক্যাসিনো ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের অন্যতম সদস্য গ্রেফতার

মেহেরপুরে অনলাইন ক্যাসিনো ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশন চক্রের অন্যতম সদস্য গ্রেফতার

অপরাধ ডেস্ক

মেহেরপুরে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা এবং অবৈধ ইলেকট্রনিক লেনদেন (ই-ট্রানজেকশন) চক্রের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান অভিযানে আরও এক এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মাসুদ রানা (৪০), যিনি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর বাজারে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা ওই উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং কোমরপুর বাজারের ‘রোজ ফ্যাশন’ নামক একটি পোশাকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘রোজ ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠানটি ঘেরাও করে। অভিযানে মাসুদ রানাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, এই ডিভাইসের মাধ্যমে তিনি অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও জুয়ার সাইটগুলো পরিচালনা করতেন।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগর থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অনলাইন জুয়া ও অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে প্রাথমিকভাবে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা থাকলেও পরবর্তী পুলিশি তদন্তে এই চক্রের সাথে আরও অনেকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। মাসুদ রানা ওই মামলার ১১ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। গ্রেফতার এড়াতে তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করলেও মাঝে মাঝে গোপনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেন। ডিবির গোয়েন্দা দল দীর্ঘ সময় ধরে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার পর এই অভিযানে সফল হয়।

মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী এই অভিযানের বিষয়ে জানান, “সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় অভিযুক্ত মাসুদ রানাকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ফরেনসিক রিপোর্টে যদি অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা বা সন্দেহজনক বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করা হবে।”

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন ক্যাসিনো এবং মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এই ধরনের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। এই চক্রগুলো সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন জুয়ায় উদ্বুদ্ধ করে এবং পরে হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচার করে থাকে। মেহেরপুরের এই অভিযানকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সেই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ