রাজনৈতিক ডেস্ক
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পরিবেশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে ভারতকে ফারাক্কা বাঁধ পরীক্ষামূলক চালুর অনুমতি দেয়ায় এটি বর্তমানে দেশের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে আয়োজিত ঐতিহাসিক লংমার্চ ছিল আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের এক মাইলফলক। আজ থেকে ৪৯ বছর আগে সেই আন্দোলনের মাধ্যমে পানির অধিকারের বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনা হয়েছিল।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে পানি সরিয়ে নেওয়ায় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল মরুকরণ প্রক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। এর ফলে কৃষি, মৎস্য সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যে মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু গঙ্গা নয়, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে নিষ্ফলা ও ঊষর ভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মওলানা ভাসানী যে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছিলেন, তা বর্তমানে বাস্তব রূপ নিচ্ছে। অভিন্ন নদীর পানির ওপর বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় জনমত গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ফারাক্কা দিবসের গুরুত্ব বর্তমানে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।


