অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির আগে বিশেষ সরকারি আদেশে শনিবার দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ এই কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উভয় বাজারের সবগুলো মূল্যসূচকের বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। সূচকের পাশাপাশি দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও পূর্ববর্তী কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শনিবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে। ক্রেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে লেনদেনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। বিনিয়োগকারীদের সুনির্দিষ্ট ক্রয়ের চাপে বিক্রেতাদের চেয়ে ক্রেতার আধিক্য বেশি থাকায় সূচকগুলো টানা ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে থেকে দিনের লেনদেন শেষ করে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন্ন উৎসবের ছুটির আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে বাজার চিত্রে।
দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মোট লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকেরও বেশি। বিপরীতে ১১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম হ্রাস পেয়েছে এবং ৬০টি প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য অপরিবর্তিত ছিল।
অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দাম বাড়ার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ‘ডিএসইএক্স’ এক দিনেই ৬৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি অন্যান্য বিশেষায়িত সূচকগুলোতেও বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। এর মধ্যে ডিএসইর শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ‘ডিএসইএস’ ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে এবং বাছাইকৃত ৩০টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির সূচক ‘ডিএস-৩০’ ৩৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের এই অবস্থানকে সামষ্টিক বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
সূচকের এই বড় উত্থানের দিনে ডিএসইতে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার এই বাজারে মোট ৯০২ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, আগের দিনের তুলনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দৈনিক লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মূলধনের এই বাড়তি প্রবাহ বাজারে তারল্য সংকটের সাময়িক উপশম ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের চাঙ্গা ভাব বজায় ছিল। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ‘সিএএসপিআই’ ১৬১ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ হাজার ৮৬১ পয়েন্টে স্থিতু হয়েছে। এদিন সিএসইতে মোট ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ৬৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য। তবে ডিএসইর মতো সিএসইতে লেনদেনের অংক বাড়েনি। শনিবার সিএসইতে মোট ২৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা এর আগের কার্যদিবসের ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার তুলনায় ৬ কোটি টাকা কম।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত ঈদের ছুটির আগে বাজারে এক ধরনের বিক্রির চাপ থাকে। তবে এবারের বিশেষ কার্যদিবসে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং বাজারের বর্তমান মূল্যস্তরকে বিনিয়োগ উপযোগী মনে করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ছুটির পর বাজার এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে পারলে দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


