ঈদুল আযহায় নৌপথে স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএর বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস

ঈদুল আযহায় নৌপথে স্বস্তির যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএর বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবং নৌপথে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের নদীবন্দরগুলো থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে এই বিশেষ সেবা পরিচালিত হবে। ঢাকার মূল নদীবন্দর সদরঘাটের ওপর চাপ কমাতে এবার বিকল্প ঘাটগুলোকেও এই বিশেষ সেবার আওতায় আনা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন বছিলা ব্রিজ সংলগ্ন লঞ্চঘাট থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৬টি নৌপথে মোট ১২টি লঞ্চ বিশেষভাবে চলাচল করবে। একই সাথে যাত্রীদের চাপ সামলাতে ঘোড়াশাল নদীবন্দরের আওতাধীন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকেও লঞ্চ ও ফেরি সার্ভিস সচল রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি লাঘব করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বছিলা লঞ্চঘাট থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বেশ কিছু লঞ্চ নিয়মিত এবং কিছু লঞ্চ বিশেষ সার্ভিস হিসেবে পরিচালনা করা হবে। সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে বছিলা-সদরঘাট-হাকিমুদ্দিন রুটে ‘এমডি টিপু’ ও ‘এমডি টিপু ৬’ নামের লঞ্চ দুটি চলাচল করবে, যা বছরজুড়েই নিয়মিত থাকবে। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বছিলা-সদরঘাট-চাঁদপুর রুটে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত থাকবে ‘এমডি ইমাম হাসান ২’ ও ‘এমডি ইমাম হাসান ৫’।

ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস হিসেবে আগামী ২৪ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত বছিলা-সদরঘাট-শৌলা-মুধারহাট-মুলাদী রুটে সকাল ১১টায় চলাচল করবে ‘এমডি জামাল ১’। একইভাবে দুপুর ১২টায় বছিলা-সদরঘাট-গলাচিপা রুটে বিশেষ সেবা দেবে ‘এমডি শরীয়তপুর ৩’ ও ‘এমডি মিতালী ৫’। এই লঞ্চগুলোও নির্ধারিত চার দিন বিশেষ ট্রিপ হিসেবে কাউন্ট হবে।

বিকালে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য ৩টা ৩০ মিনিটে বছিলা-সদরঘাট-চাঁদপুর রুটে ছাড়বে ‘এমডি সোনারতরী ৪’। এরপর বিকাল ৪টায় বছিলা-সদরঘাট-বরিশাল (ভায়া চাঁদপুর নন্দিবাজার) রুটে ‘এমডি তরঙ্গ ১’, ‘এমডি মর্নিংসান ৫’ এবং ‘এমডি আচল ৬’ নিয়মিতভাবে চলাচল করবে। এছাড়া রাতের যাত্রীদের সুবিধার্থে সন্ধ্যা ৬টায় বছিলা-সদরঘাট-ইলিশা রুটে ‘এমডি ইয়াদ ১’ লঞ্চটি যাত্রা করবে।

অন্য দিকে ঢাকার বাইরে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকেও ঈদের বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই ঘাট থেকে সকাল ৭টায় শিমুলিয়া-চাঁদপুর ঈদগাহ ফেরীঘাট রুটে ‘এমডি নাড়িয়া ৭’ লঞ্চটি যাত্রী পারাপার করবে। এছাড়া শরীয়তপুর ও ভোলাগামী যাত্রীদের জন্য সকাল ৮টায় শিমুলিয়া-হরিণা ফেরীঘাট-ইলিশা রুটে ‘কার্নিভাল ১’ এবং ‘কার্নিভাল ওয়েভ’ নামক দুটি ফেরি চলাচল করবে, যা এই রুটের যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতি বছর ঈদের সময় সদরঘাট টার্মিনালে যে ধারণাতীত ভিড় এবং যানজটের সৃষ্টি হয়, বছিলা ও শিমুলিয়ার মতো বিকল্প ঘাটগুলোকে সচল করার মাধ্যমে সেই চাপ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বছিলা ঘাটটি সচল হওয়ায় মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর ও সাভার এলাকার মানুষের জন্য সদরঘাট না গিয়েই সহজে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

বিআইডব্লিউটিএ নিশ্চিত করেছে যে, ঈদকালীন এই বিশেষ নৌ-সেবা চলাকালীন ঘাটের নিরাপত্তা, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই রোধ এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে কঠোর নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপদ, আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ