আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য ২১ দিনের বাধ্যতামূলক আইসোলেশন ও কঠোর ‘বায়ো-সিকিউরিটি বাবল’ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্য আফ্রিকার দেশটিতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর এই সতর্কতামূলক স্বাস্থ্যবিধি আরোপ করা হলো।
স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে বেলজিয়ামে অবস্থানরত কঙ্গো দলের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে দলটিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চলতি মে মাসের শুরুতে কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের একটি বিরল রূপ ‘বুন্দিবুগিও’ এর প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়। দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ১৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির প্রেক্ষাপটেই বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সীমান্ত ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক স্পষ্ট করেছেন যে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয়। সীমান্ত বা এর কাছাকাছি ইবোলার সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন যেকোনো সম্ভাবনা শুরুতেই বন্ধ করতে চায় দেশটি।
ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন হিউস্টনে পৌঁছানোর আগে কঙ্গো দলকে টানা ২১ দিন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন পরিবেশে বা ‘বাবল’-এর মধ্যে থাকতে হবে। কঙ্গো সরকার ও ফুটবল প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সুরক্ষাকবচ বজায় না রাখলে দলটির বিশ্বকাপ যাত্রা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এই স্বাস্থ্য সতর্কতার কারণে কঙ্গো ফুটবল দল তাদের পূর্বনির্ধারিত অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির রাজধানী কিনশাসায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা মূল প্রশিক্ষণ শিবিরটি বাতিল করে ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ জুন বেলজিয়ামের লিয়েজে ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং ৯ জুন দক্ষিণ স্পেনে চিলির বিপক্ষে দলটির দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
কঙ্গো জাতীয় দলের ফরাসি প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাবের সহ স্কোয়াডের প্রায় সব সদস্যই কঙ্গোর বাইরে অবস্থান করেন। খেলোয়াড়দের একটি বড় অংশ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোতে পেশাদার ফুটবল খেলেন। এর মধ্যে রয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার অ্যারন ওয়ান-বিসাকা, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড ইয়োয়ানে উইসা এবং ফ্রান্সের লিগ ওয়ানের ক্লাব লিলের ডিফেন্ডার ও জাতীয় দলের অধিনায়ক চ্যানসেল এমবেম্বা। ইউরোপে অবস্থান করলেও কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে পুরো দলকেই এই কোয়ারেন্টাইন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
আসন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপে কঙ্গো ‘কে’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সূচি অনুযায়ী, ১৭ জুন হিউস্টনে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। এরপর ২৩ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা এবং ২৭ জুন আটলান্টায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা রয়েছে দলটির। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন শর্তের সফল বাস্তবায়নের ওপরই এখন নির্ভর করছে কঙ্গোর মূল আসরে অংশগ্রহণের বিষয়টি।


