পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ডিএনএ রিপোর্ট মিললে ঈদের আগেই চার্জশিট

পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা: ডিএনএ রিপোর্ট মিললে ঈদের আগেই চার্জশিট

জাতীয় ডেস্ক

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডিএনএ প্রতিবেদন আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। একই সাথে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আজ শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, যেকোনো স্পর্শকাতর ফৌজদারি মামলায় ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) প্রতিবেদনের মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন ছাড়া তড়িঘড়ি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপরাধী যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যেতে পারে, সেজন্য নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে এই প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। ল্যাবরেটরি থেকে আগামী তিন দিনের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দেবে। সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঈদের ছুটির আগেই এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জনস্বার্থ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও জানান, মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আদালতের অবকাশকালীন ছুটি ও ঈদের ছুটির পরপরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় উচ্চ আদালতে এই ধরনের গুরুতর ও সংবেদনশীল মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন বা ‘ডেথ রেফারেন্স’ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও আলোচনা হয়। দেশের বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থায় নিম্ন বা বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়াটিই আইনি পরিভাষায় ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত।

এই দীর্ঘসূত্রতার কারণ ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথিপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানোর পর সরকারি মুদ্রণালয় থেকে ‘পেপার বুক’ বা মামলার বিস্তারিত বৃত্তান্ত ও নথির অনুলিপি প্রস্তুত করতে হয়। এই পেপার বুক প্রস্তুত করার প্রচলিত প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। ফলে উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত রায় পেতে এবং তা কার্যকর হতে স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ বিলম্ব ঘটে।

তবে সরকার এই আইনি জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কমিয়ে আনতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ডেথ রেফারেন্সের আইনি প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং সহজতর করা যায়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্বের সাথে বিভিন্ন কৌশল ও সংস্কারের কথা বিবেচনা করছে। পেপার বুক দ্রুত প্রস্তুত করার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাজের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ন্যায়বিচার লাভ করতে পারে।

আজকের এই মতবিনিময় সভায় দেশের বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দরিদ্র ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা (লিগ্যাল এইড) কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ