সারাদেশে হামে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২ হাজারের বেশি

সারাদেশে হামে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ২ হাজারের বেশি

জাতীয় ডেস্ক

সারাদেশে তীব্র আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশে নতুন করে ২ হাজার ১৩২ জন সন্দেহভাজন হামরোগী শনাক্ত করা হয়েছে। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রামক এই ব্যাধির প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সার্বিক হাম পরিস্থিতির এই সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাঠপর্যায় থেকে আসা প্রতিবেদনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন করে আক্রান্তদের সিংহভাগই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে অন্য শিশুদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে টিকা না নেওয়া এবং পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুরা এই রোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। চিকিৎসকরা জানান, তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি, সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হওয়া হামের প্রধান লক্ষণ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় শিশুদের টিকাদানের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে কম হওয়ায় রোগের প্রকোপ এমন আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল, দুর্গম চরাঞ্চল এবং শহরের বস্তি এলাকাগুলোতে টিকাদানের আওতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কন্ট্রোলরুমের তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করেছেন এবং সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুকে নির্দিষ্ট সময়ে এমআর (হাম ও রুবেলা) টিকা দেওয়া। সরকারিভাবে এই টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।

এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ