রাজউকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার নির্দেশ গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর

রাজউকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার নির্দেশ গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ন এবং নগরবাসীর নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তাদের দলগতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। একই সঙ্গে তিনি রাজউকের সেবার মান বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রের বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আজ রাজধানীর রাজউক অডিটোরিয়ামে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ উইং-এর সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ উইং-এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও মতামত মনোযোগ সহকারে শোনেন। রাজধানী ঢাকার আবাসন ও অবকাঠামোগত শৃঙ্খলা রক্ষায় এই উইংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিক সেবা প্রাপ্তি যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজউকের কাজে আরও গতিশীলতা আনার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা মেগাসিটির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও আবাসন চাহিদা মেটাতে রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ উইংয়ের ওপর বিশাল দায়িত্ব ন্যস্ত। এই উইং মূলত রাজধানী উন্নয়ন এলাকার পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে। এর আওতায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প ভবনের নকশা পরীক্ষা ও অনুমোদন প্রদান, মাস্টার প্ল্যান ও বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন হয়।

এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা যাচাইকরণ, অনুমোদনহীন বা নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণও এই উইংয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উচ্চতা, সেটব্যাক (ভবনের চারপাশে খালি জায়গা ছাড়ার নিয়ম) ও ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) কঠোরভাবে তদারকি করা এবং নির্মাণকাজ শেষে ভবনের ব্যবহার উপযোগিতা যাচাই করে ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ বা বাসযোগ্যতার সনদ প্রদান করার প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয় এই সভা থেকে।

সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি আধুনিক ও নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে হলে নিয়মকানুনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সেবার মানসিকতা থাকা জরুরি। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় কর্মকর্তারা যেসব প্রশাসনিক বা কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হন, তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজউকের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজউকের সদস্য শেখ মতিয়ার রহমান, মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সভায় রাজউকের চলমান প্রকল্পসমূহ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ