পর্যাপ্ত দেশীয় জোগান, কোরবানির হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর

পর্যাপ্ত দেশীয় জোগান, কোরবানির হাটে ভারতীয় গরু প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত গবাদিপশু দিয়েই কোরবানির সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ। দেশের খামারি ও সাধারণ কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্ত পথে কোনো ধরনের অবৈধ বা ভারতীয় গরু যাতে দেশের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকার একটি কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ সব কথা জানান। এ সময় তিনি হাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পশু কেনাবেচার বিভিন্ন দিক সশরীরে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে গবাদিপশু লালন-পালনের সাথে যুক্ত এবং এবারের ঈদে তার খামার থেকে ৪৫টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। শখের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে গবাদিপশু পালন যে গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, সে বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জনপদে দরিদ্র কৃষকদের মাঝে যে গরু ও ছাগল বিতরণ করা হয়, তা সঠিকভাবে লালন-পালন করে অনেকেই এখন কোরবানির বাজারে বিক্রি করছেন। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনি পশুর অভ্যন্তরীণ চাহিদার ক্ষেত্রে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

হাটে বিদেশি গরুর অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে জানান, দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাটে বাইরের কোনো দেশ থেকে আসা পশুর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশীয় খামারিদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এই নীতির ফলে স্থানীয় পশু পালনকারীরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং ভবিষ্যতে পশুপালনে আরও উদ্বুদ্ধ হবেন বলে বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা।

কোরবানির হাটে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। বিশেষ করে জাল টাকার অপব্যবহার ও প্রতারণা রুখতে হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাটের অভ্যন্তরে পুলিশের অস্থায়ী বুথগুলোতে আধুনিক জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বুথ ও ইজারাদারদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। নগদ টাকার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নিরাপদে তাদের আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশীয় পশুর পর্যাপ্ত জোগান থাকায় এবার বাজারে কৃত্রিম সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের এমন কঠোর তদারকি এবং হাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বজায় থাকলে উৎসবমুখর পরিবেশে কোরবানির পশু কেনাবেচা সম্পন্ন হবে এবং প্রান্তিক খামারিরা তাদের কষ্টের সঠিক মূল্য পাবেন।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ