ঈদের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার রায়ের সম্ভাবনা

ঈদের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলার রায়ের সম্ভাবনা

আইন-আদালত ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মধ্যে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা দুটি মামলার রায় আগামী ঈদুল আজহার পর ঘোষণা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (২৫ মে) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের বর্তমান কার্যক্রমের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ২২টি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলার আইনি যুক্তি তর্কের ধাপ শেষ হওয়ায় সেগুলো রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় আগামী ঈদের ছুটির পর যেকোনো সময় আদালত এই রায়গুলো ঘোষণা করতে পারেন।

মামলাগুলোর বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরো জানান, বিচারাধীন মামলার পাশাপাশি আরো ৩১টি মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে সমাপ্তির পথে রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই মামলাগুলোর তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে, যা দ্রুতই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে দাখিল করা হবে।

একই সাথে ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর জানান, বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া গুম, খুন ও কথিত ক্রসফায়ারের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রাথমিকভাবে ১৫০টি গুরুত্বপূর্ণ মামলা চিহ্নিত করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপেক্ষমাণ মামলাগুলোর রায় ঘোষণা এবং নতুন করে গুম-ক্রসফায়ারের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তদন্ত শুরু করার এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ট্রাইব্যুনালের এই তৎপরতা দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরো সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ