হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো শেডের আগুন নিয়ন্ত্রণে, বিমান চলাচল স্বাভাবিক

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো শেডের আগুন নিয়ন্ত্রণে, বিমান চলাচল স্বাভাবিক

জাতীয় ডেস্ক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শেডে লাগা আগুন দ্রুততার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত দল। শুক্রবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক বিমান চলাচল বা ফ্লাইং অপারেশন কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই সম্পূর্ণ সচল ছিল বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ২৪ মিনিটে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশনের একটি কন্টেইনারের অভ্যন্তরে ও পাশে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কার্গো শেডের মালামাল রাখার স্থানে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে সরাসরি অংশ নেয়। এর পাশাপাশি শাহজালাল বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট এবং নিকটবর্তী বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ‘এ কে খন্দকার ঘাঁটি’ থেকে বিমান সেনা ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে অগ্নিনির্বাপণ কাজে যোগ দেন। সকলের সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে, অর্থাৎ মাত্র ১৪ মিনিটের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

বিমানবন্দরের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দরের নিজস্ব দল এবং বিমান বাহিনীর উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে সেখানে আর কোনো আগুন বা বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক কোনো ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটেনি। শিডিউল অনুযায়ী সব ধরনের বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দেশের প্রধান এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতার কারণে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ